
প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং প্রায় ৮৭ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক।
তারও আগে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে কামাল পরিবারের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
একই দিনে কামালের তৎকালীন এপিএস মনির হোসেনের বিরুদ্ধেও একটি মামলা করে দুদক।
দুদকের তদন্তে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে প্রায় ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া তার ৮টি ব্যাংক হিসাবে ৫৫ কোটি ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের দাবি, এসব লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং মানিলন্ডারিংয়েরও প্রমাণ মিলেছে।
দ্বিতীয় মামলায় কামালের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর দুর্নীতির টাকায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তাহমিনার ১০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।
তৃতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে কামাল ও তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খানকে।
তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, শাফি তার ব্যাংক হিসাবে ৮৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।
এই মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
চতুর্থ মামলায় কামাল ও তার মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে শাফিয়ার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেছে।
এই মামলার বাদী সহকারী পরিচালক মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
পঞ্চম মামলায় কামালের সাবেক এপিএস মনির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হুসাইন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।