
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় নানা মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার।
সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তানে সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ কর্মী বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করবেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় ব্যাংক খাত থাকবে না।
ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনো বেতন পাবেন না।
সরকারি ব্যয় কমাতে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—
সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো
সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ দুই মাসের জন্য ৫০ শতাংশ কমানো
সরকারি দপ্তরের ৬০ শতাংশ গাড়ি ব্যবহার না করা
২০তম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা
এছাড়া সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকারি বৈঠকের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মিটিং ও টেলিকনফারেন্স ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে স্কুলগুলো চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পুরো অঞ্চল বর্তমানে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।