
ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের হুইপদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংসদ সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খান, মো. আবুল হাসনাত এবং মো. নূরুল ইসলাম।
এই বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ, তবে সেখানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংসদের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, গতিশীল এবং অংশগ্রহণমূলক করার বিষয়ে দুই পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠার ধারণা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর এবং প্রাণবন্ত করে তুলতে চায়। সে লক্ষ্যেই বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। তাই এখানে সব দলের মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক সংসদের কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী দলীয় প্রতিনিধিরাও সংসদীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদের ভেতরে গঠনমূলক আলোচনা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকটি ছিল পারস্পরিক সৌজন্য ও আলোচনার অংশ। ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে দুই পক্ষের মধ্যে এ ধরনের সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কার্যক্রমে সব দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে সংসদের ভেতরে সহযোগিতা ও সংলাপের পরিবেশ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।