
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
“ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডিএনসিসির উদ্যোগে মিরপুরের ওলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ি বস্তির উপকারভোগীদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনসিসি এলাকার প্রতিটি নিম্নআয়ের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
তিনি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন,
“বিএনপি যা বলে, বিএনপি তা করে। আমি বলেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমি নিজে আপনাদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দেবো। আজ আমি আমার সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে শুধু সরকারের নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য পরিবারগুলোকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
এতে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব রাখা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিএনসিসির এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে মিরপুরের দুটি বস্তির মোট ৫০৯টি পরিবার ফ্যামেলি কার্ড পাচ্ছে।
এর মধ্যে—
বাগানবাড়ি বস্তির ১১৭টি পরিবার
ওলিমিয়ার টেক বস্তির ৩৯২টি পরিবার
এই কার্ডের আওতায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান।
ফ্যামেলি কার্ড পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।
উপকারভোগী রিনা আক্তার বলেন,
“আমরা পাঁচজনের পরিবার। এত দ্রুত এই কার্ড হাতে পাবো ভাবিনি। এই সহায়তার টাকা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনা চালাবো এবং কিছু সঞ্চয় করে ছোট ব্যবসা শুরু করতে চাই।”
আরেক উপকারভোগী শারমিন আক্তার বলেন,
“ফ্যামেলি কার্ড পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের বড় কোনো আশা নেই, ছোট ছোট আশা আছে। আমরা আশা করি সরকার সবসময় আমাদের পাশে থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত উপকারভোগীদের মাঝে প্রতীকীভাবে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়।