
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ১২টি বোমা সদৃশ ককটেলসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি সুলতান গাজী (৩৬) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোর। সোমবার (৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নাউলী গ্রামে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোরের পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. আহসান হাবীব বাদী হয়ে সুলতান গাজীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
আটক সুলতান গাজী আড়পাড়া গ্রামের গফ্ফার গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অস্ত্র, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন মামলায় পলাতক থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাবের একটি দল সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নাউলী গ্রামে অভিযানে যায়। এ সময় তারা সামাদ গাজীর পরিত্যক্ত বাড়িতে অবস্থানরত সুলতান গাজীকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারের পর সুলতান গাজী স্বীকারোক্তি দেন যে, তার কাছে ১২টি বোমা সদৃশ ককটেল রয়েছে। পরে তার নির্দেশে র্যাব একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে লাল কসটেপ দিয়ে পেঁচানো ১২টি ককটেল উদ্ধার করে।
অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “১২টি ককটেলসহ সুলতান গাজী নামে এক পলাতক আসামিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে র্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোরের পুলিশ পরিদর্শক মো. আহসান হাবীব বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া সুলতান গাজীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অস্ত্র, সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা রয়েছে।”
স্থানীয় পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সুলতান গাজী কয়েক বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা ও বিচারের জন্য আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, সুলতান গাজীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র ও সন্ত্রাস মামলাগুলোও দ্রুত কার্যক্রমের আওতায় নেওয়া হবে।
এই গ্রেপ্তারী অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এলাকায় কমে যাবে। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে।