
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাদকের টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে চার বন্ধুর হাতে কলেজছাত্র সিয়াম মোল্যা (১৪) হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত সিয়াম মোল্যা মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালি প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ মার্চ) থেকে সিয়াম নিখোঁজ হয়। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে স্থানীয়রা ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও নগদ টাকা ছিল। এই আইফোন বিক্রি করে এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে মাদকের টাকা জোগাড় করার পরিকল্পনায় সিয়ামকে হত্যা করে তার চারজন বন্ধু। অভিযুক্তরা হলেন বাঁশবাড়ীয়া এলাকার ইউপি সদস্য রিপনের ছেলে সাজিদ, টুটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী, ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার এবং আরেকজন অজ্ঞাত পরিচয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার সিয়ামকে হত্যা করার পর মরদেহটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় ঝুটিগ্রামের দিদার (১৪) ও বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পারভেজ (১৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি দুই জনকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সিয়ামের মা মারা গেছেন এবং বাবা ইতালি প্রবাসী হওয়ায় সে নানাবাড়িতে থাকতেন। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে মাদকের লোভ মানুষের কতটা অমানবিক আচরণে প্রবৃত্ত করতে পারে। তুচ্ছ একটি ফোন ও মাদকের টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধুকে হত্যা করার ঘটনায় পুরো মুকসুদপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তদন্ত চলছে।
মুকসুদপুর থানার ওসি বলেন, “আহত ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে।”
সংক্ষেপে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বন্ধুর হাতে কলেজছাত্র সিয়ামের হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা মাদকের টাকা ও আইফোন লুট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।