
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে প্রান্তিক কৃষক জাবেদ মোল্লার বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার আনারপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপরভাবে টহল জোরদার করেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় এলাকার সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় এলাকাবাসি প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধুনট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার হামিদুল ইসলাম জানান, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিকাণ্ডে দুইটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বসতঘরে থাকা মালামাল ও নগদ টাকা ভস্মীভূত হয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা জাবেদ মোল্লা বলেন, “আগুন আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ধার-দেনা করে চাষাবাদ করতাম। বসতঘর, আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক সময় লাগবে।” তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন যাতে পরিবারটি আবার নতুনভাবে জীবনযাপন শুরু করতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট।幸পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে কারণ আগুন লেগে যাওয়ার সময় বাড়িতে কোনো লোক উপস্থিত ছিলেন না। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় জনগণও ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং তাদের জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সতর্ক করেছেন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এমন ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য স্থানীয় প্রশাসন বাড়ি ও বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
ফলে ধুনটের আনারপুর গ্রামের এই প্রান্তিক কৃষক পরিবারের জীবনধারার ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আশ্বস্ত করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে দ্রুত সাহায্য করা হবে। এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতা ও নিরাপত্তা কর্মসূচি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ধুনট উপজেলায় কৃষক পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় জনজীবনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে দ্রুত পুনর্বাসন এবং পুনর্নির্মাণে সহায়তা পেতে পারে, সেই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে।