
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, ভোটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় মাত্র এক মাসের কম সময়ে ৩৭ হাজার নারীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একে একে সব প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করব। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় হবে না। হয়তো বৈশ্বিক কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “নারীদেরকে যদি ক্ষমতায় না করতে পারি, তাহলে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।” এই মন্তব্যে তিনি নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত উপকারভোগীরা। তিনি জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড ধাপে ধাপে সব পরিবারের প্রধান নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার নারীকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীরা সরাসরি আর্থিক সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রান্তিক পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা পাবেন।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি নারীদের ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কার্ডের মাধ্যমে নারীরা পরিবারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার পথ খুলবে। এই উদ্যোগটি কড়াইল বস্তিসহ নগর দরিদ্র অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সরাসরি উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়াও নারীদের মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীসহ অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন হবে না। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ড দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যকর করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাদের স্বচ্ছ ও দ্রুত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের সব নারী উপকারভোগী এই সুবিধা পাবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের আগে উপকারভোগীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগে নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য একসাথে অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ, তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যত্যয় হবে না এবং ধাপে ধাপে দেশের সব প্রান্তিক পরিবার প্রধান নারীর কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।