বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং এভিয়েশন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) লন্ডনে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট এমপির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে—
-
বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি
-
আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের প্রসার
-
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা
-
শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি
এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ডব্লিউটিও সম্মেলনের আগে যোগাযোগ
বৈঠকে উভয় পক্ষ চলতি মাসের শেষ দিকে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়।
এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দুই দেশের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এভিয়েশন খাতে সম্ভাবনা
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন অব ডনকাস্টার ডিবিই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এই বৈঠকে বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিনিধিদল দুটি পৃথক বৈঠকও করেছে।
আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা
এদিকে ২০২৭–২০৩৬ মেয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক পদে যুক্তরাজ্যের প্রার্থী অধ্যাপক ড্যাপো আকান্দে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে তিনি তার প্রার্থিতা উপস্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিচার ব্যবস্থায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অঙ্গীকার
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরাম ও আন্তঃসরকারি নির্বাচনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আলোচনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
