
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বড়খোলা গ্রামে সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, মিলন মিয়া নামের ওই যুবক মসজিদের ভেতরে পবিত্র কোরআন শরীফ পায়ের নিচে রেখে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলন মিয়া পারিবারিক কলহের কারণে সম্প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেন। এ ঘটনার জেরে তিনি বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ইমাম এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন এবং মসজিদের ভেতরে পবিত্র কোরআন শরীফকে পায়ের নিচে রাখার সঙ্গে সঙ্গে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মুসল্লি ও এলাকাবাসী মসজিদের সামনে সমবেত হন। একপর্যায়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে ক্ষুব্ধ জনতা মিলন মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হওয়ার কারণে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় জনতা মিলন মিয়ার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য স্লোগান দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় অবস্থান নেন। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তিনি বলেন, “ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
রাত গভীর হলে এবং পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পর বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে পুলিশের নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে এবং ঘটনার প্রতিবাদে কোনো অতিরিক্ত ঘটনা ঘটেনি। কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যুবককে আটক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি তদন্তাধীন। এছাড়া, থানা সূত্র জানিয়েছে যে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনা এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতির সংবেদনশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিশ্চিত করছে, এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তৎপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।