
তেলের দামে বড় ধরনের পতনের পর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার বাজারগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে” এমন মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম শতকরা প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়, যার প্রভাব সরাসরি শেয়ার বাজারে দেখা যায়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই-২২৫ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগের দিন সোমবার বাজারে ৫ শতাংশের বেশি পতন হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারে সক্রিয় হওয়ায় সূচক দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে।
আগের সেশনে সূচকটি প্রায় ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার এটি ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটি আগের দিনের পতনের বিপরীত ধারা।
অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স-২০০ সূচকও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার প্রায় ২ শতাংশ পতনের পর মঙ্গলবার সূচকটি প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারের ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের শেয়ার বাজারেও পড়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা শিল্প ও ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমে আসে, তাহলে এশিয়ার শেয়ার বাজারে এই ইতিবাচক প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।