
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম দফা মিউনিসিপাল নির্বাচন। এই নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নির্ধারণ করা হবে। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্যানেল থেকে অর্ধডজনেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তরুণ প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকরা ফরাসি সমাজের মূলধারার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্তি আরও জোরদার করছেন। এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জানা যায়, ২০০০ সালের আগে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। তবে গত দুই দশকে এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে তারা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় হয়ে উঠছেন।
লা-কোরনোভ শহরের ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত নাদিয়া ছাবুন প্যানেল থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী আকাশ বড়ুয়া বলেন, দীর্ঘদিন ফ্রান্সে বসবাসের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে স্থানীয় প্রশাসন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। শহরের উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থানীয় পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
আকাশ বড়ুয়া বলেন, “একজন অভিবাসী হিসেবে আমি সমাজেরই অংশ। তাই সমাজের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব। ফ্রান্সের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ আমাকে উৎসাহিত করেছে।” তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, শিক্ষিত তরুণ ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করতে দেশে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা উচিত।
তাদেরই শহরের ফরাসি সোশালিস্ট পার্টি সমর্থিত ওমারু ডোকারু প্যানেলের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং ব্যাংকার নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, স্থানীয় নির্বাচন ফ্রান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিউনিসিপাল কাউন্সিল বা মেয়র নির্বাচনের মাধ্যমে যারা দায়িত্বে আসেন তারা রাস্তা, স্কুল, পরিবহন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি জানান, অভিবাসীরা বাসস্থান, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এসব সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে অভিবাসীরা শুধু অতিথি নয়, বরং সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। এতে সামাজিক সংযোগ ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি পায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক অভিবাসী পরিবারের সন্তান ফ্রান্সেই বড় হচ্ছে। তাই তাদের ভবিষ্যতের জন্য উন্নত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ জরুরি।
ফ্রান্সের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স-২৪ এর অভিবাসনবিষয়ক সাংবাদিক আরিফ উল্লাহ বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের রাজনীতি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী। ফরাসি কমিউনিটিকে একসময় ‘সাইলেন্ট’ বলা হতো, এখন তারা সক্রিয় হচ্ছে—এটি আশাব্যঞ্জক।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।