
পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এক নারী কর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের অপসারণ দাবি করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দাবিতে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে অধীনস্থ কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছেন। তারা দাবি করেন, তার আচরণের কারণে অফিসের কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি দেবীগঞ্জ ও সদর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সঙ্গে জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চারটি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক লুনা বেগম কিছুটা দেরিতে পৌঁছালে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় উপস্থিত অন্য নারীদের প্রতিও তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে দাবি করেন বক্তারা। ঘটনাটি ঘটার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ফিরে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এতে অফিসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা গেছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৭ নভেম্বর এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের চাঁপাইনবাবগঞ্জে বদলির আদেশ জারি হয়েছিল। তবে সেই আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি এখনো পঞ্চগড়ের বিভিন্ন কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি এখনো পদে বহাল রয়েছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণ করার দাবি জানান। অন্যথায় মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন কোনো অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক ও ভুক্তভোগী লুনা বেগম, হিসাবরক্ষক সিলভিয়া নাসরিন, প্রশিক্ষক জান্নাতুল আয়শা জেলি, অফিস সহায়ক মকবুল হোসেন, বোদা উপজেলা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক আক্তারুল ইসলাম, দেবীগঞ্জ কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক সঙ্গীত শিক্ষক জুথি আক্তারসহ অন্যরা।