
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সালিশ চলাকালীন সংঘর্ষে আনিসুর রহমান ওরফে বেহেদুলা (৬৫) নিহত হয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কোর্ট বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আনিসুর রহমান শিবগঞ্জ পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিমাবাদ নবাব জায়গীর মৃত জাফর আলী মিস্ত্রীর ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালিশ বসেছিল আনিসুরের ছেলে মো. আওয়াল (২৬) ও একই এলাকার মো. কেতাবুলের মেয়ে সাহিদা বেগম (২৫) এর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে। সালিশে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা না হওয়ায়, ছেলেপক্ষ যখন স্থানত্যাগ করছিল, তখন মেয়েপক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন আনিসুর। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুই পক্ষই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। জানা গেছে, আওয়াল ও সাহিদার সম্পর্ক বিয়ের আগে থেকেই চলছিল, এবং বিয়ের পরও সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। এর আগে প্রায় ১০–১২ বার সালিশ হয়েছে, যার মধ্যে একবার আওয়ালকে জরিমানা করা হয়েছে।
গত রবিবার আবারও সালিশ বসে, যেখানে মেয়েপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাহিদার মামাতো ভাই মো. কাওসার। সংঘর্ষের সময় লাঠি-ছুরির ব্যবহারে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক এবং পূর্বের সালিশেও পূর্বশর্তে সমাধান না হওয়ায় পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কড়া নজর রাখছে।
সংক্ষেপে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সালিশ চলাকালীন ঘটে যাওয়া সংঘর্ষে একজন বৃদ্ধ নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় সামাজিক সমস্যা ও সালিশ প্রথার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন তদন্তে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।