
চীনের বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাসের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর পূর্বাভাস প্রদান করেন। তিনি ২০২৪ সালের মে মাসে একটি বক্তৃতায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছিলেন। প্রথমে, তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে হওয়ার সম্ভাবনা উল্লিখিত করেন এবং পরবর্তীতে ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই দুটি পূর্বাভাসই বাস্তবে মিলে যাওয়ায় জিয়াংয়ের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। অনেকে তাকে ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ হিসেবেও উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।
জিয়াংয়ের মতে, তার তিনটি ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুতর পূর্বাভাসটি হলো, এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ঘটতে পারে এবং রাষ্ট্রটি ধ্বংসের মুখে পড়বে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে বিশ্ববাসী আগ্রহভরে এ পূর্বাভাসের ফলাফল দেখছে।
চীনের এই অধ্যাপক তার বিশ্লেষণে অতীতের ঘটনা, ইতিহাসের চক্র এবং ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের প্রবণতা নির্ধারণ করেন। জিয়াংয়ের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও জড়িত হয়ে একটি রক্তক্ষয়ী ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারকেও প্রভাবিত করবে।
তিনি সম্প্রতি ‘ব্রেকিং পয়েন্টস’ নামের সংবাদসিরিজে বলেছেন, যুদ্ধের অগ্রগতির বিশ্লেষণ অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। ইরান দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জিয়াংয়ের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে ইরানের অবস্থান এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটের জন্য গুরুত্ববহ। জিয়াংয়ের তৃতীয় পূর্বাভাস, যা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরাজয় ও ধ্বংসের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া জিয়াংয়ের বিশ্লেষণ সামাজিক ও অনলাইন মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এ ধরণের তথ্য ও পূর্বাভাসকে নীতি নির্ধারণে বিবেচনা করতে পারেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, জিয়াংয়ের তিনটি ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে দুইটি ইতিমধ্যেই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে এবং তৃতীয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সংকট এবং সম্ভাব্য ধ্বংসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের নজর এখন এই তৃতীয় পূর্বাভাসের দিকে।