
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি দার্জিলিং সফরে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অভ্যর্থনা না জানানো নিয়ে মোদির সমালোচনার জবাবে মমতা দুই বছর পুরনো একটি ছবি জনসমক্ষে তুলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন।
রোববার এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করেন, যেখানে দেখা যায় ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ লালকৃষ্ণ আদভানিকে ভারতরত্ন দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদি পাশের চেয়ারে বসে আছেন। এই ছবি হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একজন নারী এবং আদিবাসী নেতা। কেন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আর আপনি বসে আছেন?’
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ভোটের সময় বাংলায় ‘ভোট পাখির মতো’ এসে যা খুশি তাই বলেন। মমতার দাবি, বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ পদটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে আসার সময় আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন যে, তাকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপতি মমতাকে ‘ছোট বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে জানান, তিনি বাংলার মেয়ে হিসেবে এসেছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কেন উপস্থিত ছিলেন না তা তিনি জানেন না।
এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির প্রতি তৃণমূল সরকার অসম্মান প্রদর্শন করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে এই ঘটনা ঘটায় তৃণমূলকে সংবিধানের অবমাননার অভিযোগে অভিহিত করেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল নামে একটি ব্যক্তিগত সংস্থা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে জানানো হয়েছিল, আয়োজক সংস্থা যথাযথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার যোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির সচিবালয় অনুমোদিত তালিকায় শিলিগুড়ির মেয়র এবং পুলিশ কমিশনার তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নাম তালিকায় না থাকায় তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন।