
ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা সংক্রান্ত আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও ভাঙ্গা উপজেলা আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম ম সিদ্দিক মিঞা (৫৭) দীর্ঘ ১৭৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে বের হওয়া সিদ্দিক মিঞাকে স্বাগত জানাতে কারাগারের ফটকে উপস্থিত ছিলেন ওই আসনের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।
সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৭৫ দিনের কারাভোগের পর মুক্তির পর সিদ্দিক মিঞা বলেন, তার মুক্তির জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার মাধ্যমে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সিদ্দিক মিঞার মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি আসামিদের জন্যও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ফরিদপুর-৪ আসনের দুটি ইউনিয়ন—আলগী ও হামিরদী—ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদে কয়েক দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালান। পরে উচ্চ আদালতের রায়ে ওই দুটি ইউনিয়ন আবারও ফরিদপুর-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই এলাকার ভোটাররা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।