পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে কর-সুবিধা বা ইনসেনটিভ কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
রোববার রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন দ্য স্টক মার্কেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারের আয়োজন করে পুঁজিবাজার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে অনেক বেশি ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছে।
তবে তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ কর পার্থক্য রয়েছে, যা কম নয়।
তিনি আরও বলেন, গত বছর মূলধনি মুনাফার (ক্যাপিটাল গেইন) কর কমানো হয়েছিল।
এর ফলে দুই-তিন দিন বাজার ভালো ছিল।
কিন্তু পরে আবার বাজার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এ থেকে বোঝা যায়, সমস্যাটি শুধু কর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ব্যাংকে টাকা রেখে, বিমায় পলিসি করে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেও অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে।
বিশ্বের কোনো দেশের অর্থনীতি পুঁজিবাজার ছাড়া এগিয়ে যেতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা কেন পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ না করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন, সেটির কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে ব্যাংকের তুলনায় বেশি লাভের সুযোগ থাকবে।
এ ক্ষেত্রে নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তালিকাভুক্তির সময় এমন কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে যেগুলো সত্যিকার অর্থেই ভালো মুনাফা দিতে সক্ষম।
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে, তাদের অনেকই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি।
কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বন্ধ হওয়ার অবস্থায়ও পৌঁছেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশে এ খাতে বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
ফলে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কর কাঠামো একটি বড় বাধা।
এজন্য করপোরেট কর ছাড়সহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, গত দুই বছরে দেশে কোনো আইপিও আসেনি।
ভালো কোম্পানি আনতে হলে ইনসেনটিভ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে বিএসইসি কমিশনার মো. সাইসুদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যদি ইনসেনটিভের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে বুঝতে হবে সিস্টেমে সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে ইকুইটি মার্কেটের পাশাপাশি ফিক্সড ইনকাম ও ফিক্সড কুপন ধরনের পণ্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ।
