
পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যাহার হওয়া রাষ্ট্রদূতরা হলেন—পর্তুগালে নিযুক্ত এম মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে নিযুক্ত মো. ময়নুল ইসলাম, মেক্সিকোতে নিযুক্ত এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত মো. নাজমুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের সবাইকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সেখানে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই চার রাষ্ট্রদূতকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।
তাদের মধ্যে এম মাহফুজুল হক একজন সাবেক সচিব।
মো. ময়নুল ইসলাম ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাকে আইজিপি করা হয়েছিল।
তবে কয়েক মাস পর ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি নিয়োগ দিয়ে ময়নুল ইসলামকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে সাংবাদিক এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দমন-পীড়নের ঘটনা তুলে ধরতেন।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করা হয়।
অন্যদিকে মো. নাজমুল ইসলাম একজন একাডেমিক।
তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল।
এদিকে একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
পেশাদার কূটনীতিক আবিদা ইসলামকে গত বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
১৫ ব্যাচের এই কূটনীতিক যুক্তরাজ্যে বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের স্থলাভিষিক্ত হন।
তবে শুরু থেকেই তার নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছু আপত্তি ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্বর ঢাকায় যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।