
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। রবিবার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই দাবির কথা জানান।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হতে পারে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত একটানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। তবে সংবাদপত্রে ছুটি মাত্র তিন দিন দেওয়া হয়েছে, যা তারা বিবেচনা করছেন বৈষম্যমূলক।
ডিআরইউ নেতারা বলেন, ঈদের সময় সাধারণত হকাররা পত্রিকা বিক্রি করেন না। ফলে সংবাদপত্র কর্মীরা স্বাভাবিকভাবে তাদের ছুটি উপভোগ করতে পারছেন না। এই কারণে তারা আসন্ন ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্র বন্ধ রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ঈদুল আজহায় ডিআরইউর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এবারও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, “সংবাদপত্র কর্মীরা অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করেন এবং ঈদুল ফিতর তাদের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সরকারি ছুটির সমান সুবিধা দেওয়া হলে তাদেরও ঈদ আনন্দে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে।”
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “সংবাদপত্র কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও বিতরণের মাধ্যমে দেশের জনগণকে তথ্য সরবরাহ করে। তাদের অবদানকে যথাযথভাবে সম্মান জানানো এবং ছুটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য আমরা সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
সংবাদপত্রের কর্মীদের ছুটি না দেওয়া হলে ঈদের সময় তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিশ্রামের সুযোগ সীমিত হয়। ডিআরইউ আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে চলবে এবং সব সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদপত্রে ঈদুল ফিতরের ছুটি বৃদ্ধি শুধু কর্মীদের কল্যাণের জন্য নয়, পাঠকদের জন্যও সুবিধাজনক। হকাররা সাধারণত ঈদের সময় পত্রিকা বিক্রি করতে পারেন না, ফলে সংবাদপত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে না। তাই এ সময়ে সংবাদপত্র বন্ধ রাখলে উভয়পক্ষই সুবিধা পাবে।
ডিআরইউর এই দাবি দেশের সংবাদপত্র খাতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ন ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু কর্মীদের কল্যাণ নয়, সংবাদপত্রের কার্যক্রমের ন্যায্য ও সুবিচারপূর্ণ ব্যবস্থাপনাকেও প্রতিফলিত করে।
সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হবে, যাতে সংবাদপত্র কর্মীরাও আনন্দ ও বিশ্রামের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।