
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ড ও র্যাব যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। এই অভিযান শনিবার (৮ মার্চ) মধ্যরাতে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালি জুম্মাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বাগানে পরিচালিত হয়। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মানবপাচারকারী আব্দুল আলী নারী ও শিশুসহ অনেককে বিদেশে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বাগানে আটকে রেখেছিলেন। এ তথ্য পাওয়ার পর শনিবার রাত ২টার দিকে কোস্টগার্ড ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়। বাগান তল্লাশি করে সেখানে আটকে রাখা মোট ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যান।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মানবপাচার চক্র তাদেরকে বিদেশে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। তাদের সুরক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, “মানবপাচার রোধ করা আমাদের দায়িত্ব, তাই এমন অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।”
এই ধরনের অভিযান মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করছে। পাচারকারীরা মূলত দরিদ্র ও অপ্রতিষ্ঠিত মানুষদের প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে ভালো জীবন ও অর্থনৈতিক সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলে। কিন্তু কোস্টগার্ড ও র্যাবের কার্যক্রমের ফলে অনেককে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
টেকনাফ এলাকার মানবপাচার চক্রের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নজরে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সম্প্রতি একাধিক অভিযান চালিয়ে চক্রের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চক্রটি এখনো সক্রিয়। তাই সতর্কতা এবং গোপন তথ্যভিত্তিক অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের প্রমাণাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদও সম্পন্ন করা হবে।
এই অভিযান টেকনাফ সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও মানবপাচার প্রতিরোধে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কোস্টগার্ড ও র্যাবের যৌথ প্রচেষ্টা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাচারকারীদের কার্যক্রম বন্ধ করতে অব্যাহত থাকবে।
মানবপাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটতে না দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।