
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে স্টার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা নারীর বর্তমান অবস্থান ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নারী শিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সমাজ তাদের এগিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে। সমাজের এই প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
মিথিলা বলেন, নারী দিবস শুধু নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এটি নারীর অবদান ও মূল্যায়নের জন্যও উদযাপিত হয়। তিনি বলেন, সমাজে নারীদের পিছিয়ে থাকার একমাত্র কারণ হল সামাজিক মনোভাব। শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সামাজিক বিধিনিষেধই নারীদের এগোনোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, হাজারো গবেষণা ও স্ট্যাটিস্টিকস দেখায় নারীরা সবক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু যারা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে, তারাই আজকের সফল নারীরা। মিথিলা জানান, নারীদের স্বাধীনভাবে বাঁচতে দেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এগোতে পারবে না। সমাজের এই বাধা ভাঙার মধ্য দিয়েই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব।
মিথিলা নারী অবদানের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, মূল্যায়নের আগে নারীকে স্বাধীনভাবে কাজ ও চলাফেরা করার সুযোগ দিতে হবে। বর্তমানে নারীরা “ট্রিপল বারডেন”– ঘরের কাজ, বাইরের কাজ ও সন্তান পালন–এতে সীমাবদ্ধ থাকলেও সমাজ তা মহিমান্বিত করে দেখানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, নারীর স্বাভাবিক জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শোবিজ খাতে নারীদের বাস্তবতা নিয়েও মিথিলা বলেন, যেখানে নারীদের সাজগোজ বা পোশাক নিয়ে জাজ করা হয়, সেখানে তাদের প্রতি সামাজিক বিচার ও হ্যারেসমেন্ট চলতেই থাকে। নারী-পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও সমাজ প্রভাব ফেলে। অনেক মেয়েরা অন্যের উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে বন্ধুত্ব গড়তে ভয় পান।
মিথিলা ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, শিশু বয়স থেকে শুরু করে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে তার জীবনেও এই প্রতিবন্ধকতা স্পষ্ট। সমাজ নারীদের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বন্দি করে, তাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা বা সৎভাবে কাজ করলেও সমালোচনা চলে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সাধারণ মানুষও পাবলিক ফিগারদের কাছে মন্তব্য করতে পারে। মিথিলা বলেন, এগুলোকে ইগনোর করে নিজের কাজে ফোকাস করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি সৎ থাকলে কারো কথায় প্রভাবিত হই না। সমাজ শুধু কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করে দেয় না। তাই নিজের কাজে মনোযোগ দিন এবং সাফল্য অর্জন করুন।”
মিথিলার কথায় স্পষ্ট হয়, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল শিক্ষাগত বা অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক মনোভাব পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও সম্ভব। নারী দিবসের এই বার্তা সকলকে সচেতন করে যে, নারীর সম্পূর্ণ উন্নয়নের জন্য সমাজকে বাধা না দেয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।