
কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লানকাটা এলাকায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যবসায়ীর নাম গণেশ পাল। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জিদান ও বাদশা। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জিদান নামে এক যুবকের কথিত প্রেমিকাকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই যুবকের ভগ্নিপতিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়।
ওসি আরও বলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতেই কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে জিদান ও বাদশাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে পল্লানকাটা এলাকায় গণেশ পালের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের স্বজনরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পরে তারা কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টার টানা অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
কক্সবাজার সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পেয়ারু বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার টানা অভিযান ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও অভিযান চালানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পেছনের ঘটনা বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।