
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে। তাই জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে কোনো প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি যদি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত না করা হয়, তাহলে অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুত এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, বিশ্বস্বাস্থ্য অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী।
তাহসিনা রুশদীর বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ১১ শতাংশেরও বেশি নারী তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্বস্বাস্থ্য অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক খাত থেকে সরকার বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও এর বিপরীতে চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং অকাল মৃত্যুর কারণে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল ক্ষতি এবং প্রাণহানি কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে। নবনির্বাচিত সরকারকেও এই অবস্থান ধরে রেখে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এটিকে স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে হলে সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করা উচিত।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মাসুমা আলম, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, ইয়ুথ ফোরামসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একযোগে দাবি জানান, অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে রূপান্তর করতে হবে। তাদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে দেশে তামাক ব্যবহারের হার কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।