
ভারতের অভিনেতা ও সাংসদ কমল হাসান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে ভারতের জন্য সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন কমল হাসান।
রবিবার এক্স (টুইটার)-এ পোস্ট করে কমল হাসান লিখেছেন, “মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আমরা ভারতবাসী—একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক। আমরা আর বিদেশিদের হুকুম শুনি না। তাই আপনার সর্বশক্তি দিয়ে নিজের চরকায় তেল দিন।”
কমল হাসান এর মধ্যে থেমে থাকেননি। চলমান ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের কড়া অবস্থানকেও তিনি খোঁচা দেন। অভিনেতার বক্তব্য, “সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলেই দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বশান্তি সম্ভব। আপনার দেশ ও সেখানকার নাগরিকদের শান্তি কামনা করি।”
রুশ তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন নতুন নয়। ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা দেশগুলো ভারত কেন রাশিয়া থেকে তেল কিনছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানায়—জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে যেখান থেকে দরকার সেখান থেকেই তেল কেনা হবে।
গত বছর রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের শর্তে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি এগোচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে। সেই পরিস্থিতিতে ৩০ দিনের জন্য ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
এই ঘোষণার পরেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কমল হাসান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত কোনো দেশের অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে ন্যূনতমও হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে কমল হাসানের মন্তব্যকে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দৃঢ় প্রতীক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য ও ট্রাম্পের বক্তব্যকে পুনর্বিবেচনার বিষয় হিসেবে নিয়েছে সংবাদমাধ্যম।