
ভারতের ‘বিগ বস ১৭’ প্রতিযোগী এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘রাইডার’ নামে পরিচিত ইউটিউবার অনুরাগ ডোভাল শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর অনুযায়ী, তিনি দিল্লি–মেরঠ এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় ১৫০ কিমি গতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন। দুর্ঘটনার কারণে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও অনুরাগ জীবিত থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন অন্য নেটপ্রভাবী দীপক কাঠুরিয়া। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতর অবস্থায় অনুরাগকে দেখতে গিয়ে দীপক তাঁর হাত ধরে বলেন, “দ্বিতীয় জন্ম হল আপনার। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাসুন।” তার অনুরোধে অনুরাগের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটে ওঠে।
পরে ‘বিগ বস ১৭’-এর কয়েকজন প্রতিযোগীও হাসপাতালে যান এবং সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে অনুরাগের দ্রুত সুস্থতার কামনা জানান। অনুরাগের সহকারী রোহিত পাণ্ডে জানান, “প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত সাহায্য না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। আপনারা না থাকলে অনুরাগ প্রাণ ফিরে পেতেন না। আপনাদের জন্যই আমরা ওকে ফিরে পেয়েছি।”
রবিবার অনুরাগকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনার আগে একটি লাইভ ভিডিওতে অনুরাগ নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মা, যদি পরের জন্মে তোমার কাছে আসি, তা হলে শুধু ভালোবাসা দিও।” এরপর গাড়ির গতি বাড়িয়ে তিনি বলেন, “চলো, শেষ ড্রাইভে যাই।” ভিডিওটি দুর্ঘটনার পরই শেষ হয়ে যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রাইডার’ নামের ইউটিউবারের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভিন্ন জাতের একজন নারী, ঋতিকাকে বিয়ে করেছেন, যা নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তবে অনুরাগের ভাই কামাল ডোভাল ভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, অনুরাগ অনেক সময়ই দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন। এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, অনুরাগ তার স্ত্রী ঋতিকার ওপরও হাত তুলেছেন।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ দ্রুত সুস্থতার কামনা করছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যেই ভারতের নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
অনুরাগ ডোভালের এই ঘটনায় মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক চাপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিন্ন সম্প্রদায় বা পরিবার থেকে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে হেনস্থা ও মানসিক চাপের শিকার হওয়া ব্যক্তি কখনও কখনও চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।