
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে একাধিক অনুষ্ঠান ও ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ এখন একটি নতুন ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরকে এবং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সমৃদ্ধি উপহার দিতে পারে।
শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত একটি ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পরে রবিবার হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে অনুষ্ঠান ও বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রকাশ করা হয়। হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এ সময় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুটি দেশের সম্পর্ককে জনগণকেন্দ্রিক করেছে। এ সম্পর্কের ভিত্তি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের অভিন্ন আত্মত্যাগে নিহিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও অগ্রসরমান সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করলে এটি শুধু দুই দেশকে নয়, পুরো অঞ্চলকে সমৃদ্ধি উপহার দিতে সক্ষম হবে।
প্রণয় ভার্মা ভারতের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরকে এই যৌথ অঙ্গীকারের পুনর্ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়িক মহলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বন্ধুত্ব কেবল কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যতটা সম্ভব আমরা দুই দেশের মানুষকে একে অপরের সংস্কৃতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও উদ্যোগের মাধ্যমে আরও কাছে আনতে চাই। এটি শুধু বন্ধুত্ব নয়, যৌথ সমৃদ্ধির পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।”
প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, ভারতের ও বাংলাদেশের যৌথ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা এলাকার স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।
উক্ত ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নতুনভাবে ফুটে উঠেছে। প্রণয় ভার্মা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও দৃঢ় হবে এবং দুই দেশের মধ্যে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।