
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকাস্থ ইরান অ্যাম্বাসিতে খোলা শোক বইয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব এমপি আখতার হোসেন। এ সময় তিনি শোক বইতে স্বাক্ষর করে খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
শোক প্রকাশের সময় আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তারা ঢাকাস্থ ইরান অ্যাম্বাসিতে গিয়ে খামেনির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করেন।
এর আগে রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে একটি প্রতিনিধি দল খামেনির মৃত্যুতে শোক জানাতে ইরানি দূতাবাসে উপস্থিত হন। এনসিপি নেতা আখতার হোসেন ও তার সহকর্মীরা ইরানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্কের প্রতি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের নেতৃত্ব খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শোক প্রকাশের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতারা কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করছেন। শোক বইতে স্বাক্ষর করাকে কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি দল খামেনির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা রাখে। শোক প্রকাশের পাশাপাশি তারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খামেনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “আজ আমরা শুধু একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি না, পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বও স্মরণ করছি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতেই এ ধরনের শোক প্রকাশ অপরিহার্য।”
উল্লেখ্য, খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দীর্ঘকালীন নেতৃত্বে ছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও খামেনির প্রতি সম্মান জানাচ্ছেন।
এই শোক প্রকাশ অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে। এনসিপি প্রতিনিধি দল শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে যে, রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।