
রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল হঠাৎ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরদার। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সেখানে বিদ্যমান নানা অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তার নজরে আসে।
পরিদর্শনের সময় তিনি নোংরা বিছানা, তেলাপোকা ও ছারপোকা এবং অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “যিনি সরকারের কাছে দায়বদ্ধ আছেন, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না।”
স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, দেশের সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানে লিডারশীপ সঙ্কট ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, রোগীদের ব্যবহারের জন্য বিছানাগুলো নোংরা এবং সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা হয়নি। বিভিন্ন কক্ষ এবং হাসপাতালের কোরিডরেও ছারপোকা ও তেলাপোকা লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় রোগীদের জন্য মানসম্মত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালকে অন্য সকল হাসপাতালের চাইতে আরও মানবিক হতে হবে। রোগীরা যে অবস্থায় আছে, তার সাথে মানবিক আচরণ করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি হাসপাতালের প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের স্টাফদের সাথে আলাপচারিতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অব্যবস্থাপনা ও ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব সম্পর্কে তথ্য নেন। হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি সতর্কবার্তা জারি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা এই হাসপাতালে যেকোনো অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই হঠাৎ পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, রোগীদের জন্য মানসম্মত এবং সুরক্ষিত চিকিৎসা পরিবেশ দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তারা হাসপাতালের প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোরালোভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কেন্দ্র নয়, বরং রোগীদের জন্য মানবিক এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালনা করতে হবে।
এভাবে হঠাৎ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা প্রকাশ্যে আনে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন।