
দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে বিশেষ কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বৈজ্ঞানিক, লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত করা একটি বিশেষ ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ জন্য মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সমঝোতার আওতায় দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধাজনক সময়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করবেন।
এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক জীবনধারা গড়ে তোলা।
মাউশি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘মনিটরিং পুল’ গঠন করতে হবে।
এই মনিটরিং পুলের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রশিক্ষণের পর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অনুশীলন করছে কি না তা তদারকি করা।
তবে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মনিটরিং পুলের কার্যক্রম নির্ধারিত ম্যানুয়ালের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে সম্প্রসারিত করা যাবে না।
এছাড়া প্রতি বছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবারও এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
মাউশির মতে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও তদারকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠবে।
এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদেরও এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
স্কুল পর্যায়ে স্কাউট সদস্যরা এবং কলেজ পর্যায়ে রোভার স্কাউট সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন।
প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যেতে পারে বলে জানিয়েছে মাউশি।
বিশেষ করে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাউশি জানিয়েছে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং কলেজের প্রধানদের দ্রুত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।