
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে দেশকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের মাটি ও পানি রক্ষায় জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে শত্রু দেশরা দেশের কোনো অংশ দখল করতে না পারে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “প্রতিবেশী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক থাকতে চায়, কিন্তু শত্রু দেশগুলো বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। আমাদের জন্য এটি একটি কঠিন পরিস্থিতি, তবে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে আমরা বাধ্য হয়ে জবাব দেব। তবে এর অর্থ এটি নয় যে ওই দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ রয়েছে।”
পেজেশকিয়ান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে যে শত্রু দেশের কোনো পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। ইরান শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না।”
তিনি স্পষ্ট করেছেন, দেশের সীমা রক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইরানের জন্য অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “যারা আমাদের আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে। আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা উচ্চ মাত্রায় রয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ইরানের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই ভাষণ ইরানের প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নীতি তুলে ধরে। তিনি জনগণকে দেশের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সক্রিয় থাকার জন্য উদ্দীপিত করেছেন।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো সীমা রক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। “ইরানী জনগণ যেন সব সময় সতর্ক ও প্রস্তুত থাকে, তাই আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। দেশের মাটি, পানি এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপ্রিয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান সব সময় আগ্রহী। কিন্তু শত্রু দেশগুলো বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে তেহরান প্রস্তুত।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের নিরাপত্তা নীতি প্রদর্শন করছে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে যাতে বিদেশি আগ্রাসী কোনো অংশ দখল করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একসাথে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক ও জাতিগত দায়িত্ব। শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে হলে জনগণকে দেশপ্রেমের প্রতিফলন হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।”
এই ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের অবস্থান ও প্রতিরোধ নীতিকে শক্তিশালী করছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন, ইরান শত্রুদের কোনো পদক্ষেপ ছাড়বেনা এবং জনগণকে দেশের রক্ষার অংশ হিসেবে সক্রিয় রাখা হবে।