
নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন বলে আশা করি।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত সব আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করা সম্ভব।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের সহায়তায় সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এর মাধ্যমে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গৃহস্থালির কাজের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা এবং নির্মাণসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীর এই অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির মতে, অতীতেও দেখা গেছে সরকার আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নারীরা শুধু সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন না, বরং অনলাইনে চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো নতুন ধরনের অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, এসব অপরাধ মোকাবিলায় সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তিনি কন্যাশিশুর সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিবাহ এখনো দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির মতে, সরকার, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নারীরা নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে সমাজের সব ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারেন।”
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে নারী উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।