পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সব বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বিদ্যালয় বা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়ামসহ সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জনভোগান্তি কমানো এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো আগামী সোমবার (৯ মার্চ) থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।
তবে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয়গুলোর আবশ্যিক পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত স্কুলগুলো তাদের পূর্বঘোষিত পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং রমজান মাসে যানজট ও জনসমাগম কমানোর উদ্দেশ্যে সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং শহরের যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দেশের সরকারি প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ছুটি কার্যকর হয়েছে এবং তা চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত।
রমজান, হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
এর আগে এই ছুটির আওতায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো ছিল না। তবে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব বিদ্যালয়কেও একই সময়ের ছুটির আওতায় আনা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার চাপ কিছুটা কমবে এবং শহরের যানজটও কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
