
দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংকটের এই সময়ে যেন নতুন কোনো জ্বালানি সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে এবং দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়—সেজন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শফিকুর রহমান লিখেছেন, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব পরিস্থিতি যদি এমনই থাকে, তাহলে এর প্রভাব আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে পড়তে পারে।”
তিনি মনে করেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিকল্প উৎসের দিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সংকটময় সময়ে অনেক ক্ষেত্রে অসাধু চক্র সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই জ্বালানি খাতে যেন কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এই সময়ে যেন নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি পাচারের বিষয়েও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তার মতে, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে যদি জ্বালানি পাচার বা অবৈধ মজুতদারি শুরু হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়বে।
শফিকুর রহমান বলেন, “দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে দেশের কোথাও যেন জ্বালানি পাচার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞই দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।
শফিকুর রহমানের এই মন্তব্যও মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।