
রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটিলিয়ন (র্যাব-২)। রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর কলেজগেট এলাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অভিযান শুরু হয়।
সূত্র জানায়, র্যাব-২ এ অভিযান পরিচালনা করছে দালাল দমন ও হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে। অভিযানটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে একযোগে চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজধানীর শের-ই বাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও পঙ্গু হাসপাতালেও র্যাবের বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযানকারীরা হাসপাতালের মূল প্রবেশপথ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে উপস্থিত দালাল চক্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার কাজও চালাচ্ছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের মধ্যে দালালদের উপস্থিতি রোগীদের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলে। রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন এবং জরুরি ক্ষেত্রে সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। র্যাবের এই অভিযান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দালাল চক্র ভাঙার জন্য নেয়া পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রশাসন জানিয়েছে, র্যাবের উপস্থিতি ও অভিযান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, একাধিক ক্ষেত্রে দালালরা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক আচরণ করতো, যা শৃঙ্খলা ও সেবা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছিল।
র্যাব-২ এর একটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চক্র চিহ্নিত করে দালাল দমনে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য রোগীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালীন সময়ে সন্দেহভাজন দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালের আশপাশে র্যাবের মোতায়েনতা বাড়ানো হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে। এছাড়া হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীরা জানাচ্ছেন, এই অভিযান তাদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
সংক্ষেপে, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে র্যাব-২ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে দালাল দমন, নিরাপত্তা জোরদার এবং রোগীদের জন্য সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একযোগে শের-ই বাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও পঙ্গু হাসপাতালেও অভিযান চলছে, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।