
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকায় প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তেল কেনার ভীড় বাড়েছে। মিরপুর, ধানমন্ডি, শাহবাগ, বাংলামোটর ও প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাইনের শেষ পয়েন্ট প্রধান সড়কে গিয়ে মিলেছে, ফলে যানজট তৈরি হয়েছে।
আতঙ্কিত অনেক গ্রাহক এক পাম্প থেকে তেল না পেয়ে অন্য পাম্পে ছুটছেন। এতে ভোগান্তি ও সময়ের অপচয় বেড়েছে। দেখা গেছে, মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন, যা পাম্পে দ্রুত মজুদ শেষ হওয়ার কারণ হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ আসবে, তাই সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যুদ্ধ চলার কারণে সরকার সীমিত আকারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে, তবে জনগণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুরের কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তেল পাননি। শাহবাগের মেঘনা পাম্পের লাইনের শেষ পয়েন্ট পিজি হাসপাতালের কাছে পর্যন্ত। এতে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য দুটি পৃথক লাইন তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক জানিয়েছেন, আতঙ্কের কারণে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে তেলবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পাম্পে সরবরাহ হয়নি। তিনি বলেন, “গ্রাহক ভাবছেন আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল দিচ্ছি না। অথচ দুপুরে তেল শেষ হয়ে যায়, ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসে বিষয়টি যাচাই করেন।”
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকারের পর্যবেক্ষণে দেশে পর্যাপ্ত এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তারা বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। জনগণ আতঙ্কিত না হোক। চলতি মাস নয়, আগামী জুন পর্যন্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত।” তিনি আরও জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের কোনো প্রভাব নেই। প্রয়োজনীয় তেল চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হবে।
সারকথা, তেলের সংকট নয়; মাত্র আতঙ্ক ও গুজবের কারণে মানুষ অতিরিক্ত ক্রয় করছেন, যা রাজধানীর পাম্পে লাইন ও যানজট সৃষ্টি করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং নিরাপদ, তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।