
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ফ্লাইটে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে কুয়েতগামী কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়ারের ছয়টি, বাহরাইনগামী গালফ এয়ারের দুটি, কাতারগামী কাতার এয়ারওয়েজের চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী এমিরেটসের চারটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে দেশের প্রবাসী কর্মীরা ভিসার মেয়াদ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ভোলার প্রবাসী মোহাম্মদ শামীম জানান, তার ফ্লাইট ১ মার্চ কাতারে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাতিল হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। তিনি বলেন, “ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে দেশে আটকে পড়েছি। এখন প্রবাসীকল্যাণ ভবনে সহায়তার জন্য আবেদন করেছি।”
সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury জানিয়েছেন, ফ্লাইট বাতিল ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের সহায়তা করা হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন চালু করেছে, যেখান থেকে প্রবাসীরা সহায়তা পাবেন।
ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দিন অনুযায়ী এভাবে:
২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি ফ্লাইট
১ মার্চ: ৪০টি
২ মার্চ: ৪৬টি
৩ মার্চ: ৩৯টি
৪ মার্চ: ২৮টি
৫ মার্চ: ৩৬টি
৬ মার্চ: ৩৪টি
৭ মার্চ (রাত ১২টার পর): ২০টি
এছাড়া সীমিত আকারে কিছু ফ্লাইটও পরিচালিত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মাস্কাটগামী একটি এবং সৌদি আরবগামী পাঁচটি ফ্লাইটসহ মোট ছয়টি ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। ১ মার্চ মাস্কাটগামী চারটি এবং সৌদি আরবগামী ১৬টি ফ্লাইটসহ মোট ২০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও কিছু ফ্লাইট সীমিতভাবে চলাচল করেছে, যাতে প্রবাসীদের যাতায়াতের সম্ভাবনা কিছুটা নিশ্চিত হয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন হতে পারে। প্রবাসীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।