
দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক। কিন্তু যেখানে থাকার কথা মসৃণ পিচঢালা সড়ক, সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে ইটের সলিং। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে যাওয়ায় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং সেসব স্থানে অস্থায়ী সমাধান হিসেবে ইট বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে একদিকে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঝিনাইদহ অংশে রয়েছে প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে চলাচল করে অন্তত তিন হাজারের মতো যানবাহন। ফলে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অনেক অংশই খানাখন্দে ভরা। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় সেই গর্ত ভরাট করতে বালুর ওপর ইট বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী সলিং। এতে করে সড়কটি আর আগের মতো মসৃণ নেই।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে শহরের আরাপপুর এলাকায় প্রায় ৮০০ মিটার, ভাটইবাজার এলাকায় প্রায় ৬৫০ মিটার, গাড়াগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার এবং শেখপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক জায়গায় সেই ইট উঠে গিয়ে আবারও গর্ত তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এসব জায়গায় বালু ফেলে তার ওপর ইট বিছিয়ে অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভারী ট্রাক ও বাস চলাচলের কারণে ইট সরে গিয়ে আবার নতুন করে গর্ত তৈরি হচ্ছে।
এর ফলে যানবাহন চালকদের বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। অনেক সময় যানজটও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কের উঁচুনিচু অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই মহাসড়ক ব্যবহারকারী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবির আহমেদ বলেন, আগে ঝিনাইদহের হামদহ এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগত। কিন্তু এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে সেখানে পৌঁছাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। অনেক সময় ক্লাস শুরু হয়ে গেলেও পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। গত দুই বছর ধরে এ ধরনের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় গড়াই পরিবহনের চালক ওসমান আলী বলেন, এমন পরিস্থিতির মহাসড়ক আগে দেখা যায়নি। পিচঢালা সড়কের মাঝখানে হঠাৎ ইটের সলিং থাকায় গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি চালাতে গিয়ে ঝাঁকুনি খেতে হয় এবং অনেক সময় ব্রেক করলেও গাড়ি পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হয়, যার কারণে যাত্রাসময়ও বেড়ে যাচ্ছে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, মহাসড়কে ইটের সলিং কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি বা নিরাপদ সমাধান নয়। ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার মতো শক্তি ইটের স্তরে থাকে না। ফলে খুব দ্রুত তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সড়ক আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সড়ক ও মহাসড়ক সংস্কারের জন্য সরকার বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উন্নয়ন বা সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ওই সময়ে মহাসড়ক সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িকভাবে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছে, যাতে যান চলাচল চালু রাখা যায়।
তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজের জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।