
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী যে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা অনেকের কল্পনারও বাইরে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা অবিশ্বাস্যভাবে ভালো করছি। আমরা এক সপ্তাহে যা অর্জন করেছি তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। তার ভাষায়, ইরানের ৪৪টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ৪৪টি জাহাজ ধ্বংস করেছি। তাদের বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি। এখন দেখছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আর খুব বেশি আসছে না।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন সক্ষমতার ওপরও আঘাত হেনেছে। ফলে ইরানের ড্রোন হামলার সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
এ সময় তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে “নির্মূল” করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
এদিকে সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, এই সংঘাত কতদিন পর্যন্ত চলতে পারে—তখন ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।
তার ভাষায়, “যতক্ষণ প্রয়োজন হয়।”
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সামরিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের কাছে শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা থাকতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে স্বাধীন সূত্র থেকেও তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সামরিক সংঘাত বাড়লে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা