
ইরানের তেলক্ষেত্র ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হামলার পর রাজধানী তেহরানের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তেহরানের একটি বড় তেল শোধনাগার এলাকা থেকে বিশাল আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়া আকাশে উঠছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দূর থেকে তা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বেসামরিক শিল্প অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ‘বেশ কয়েকটি’ জ্বালানি মজুদ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা ইরানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এই হামলার জন্য ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, আক্রান্ত তেল শোধনাগারটি রাজধানী তেহরানসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। ফলে এ স্থাপনায় হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময় একে অপরের বিরুদ্ধে গোপন হামলা, সাইবার আক্রমণ বা সামরিক অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। তবে জ্বালানি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সরাসরি হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুধু একটি দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলে না, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় এ ধরনের হামলা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের সংশ্লিষ্ট তেল শোধনাগার এলাকা থেকে আগুনের ধোঁয়া দীর্ঘ সময় ধরে দেখা গেছে।
ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা নতুন করে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে এবং এর কূটনৈতিক বা সামরিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।