
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজসহ দুই অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়েছে। এই অভিযানটি জেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের কাঁচিহাটা সর্দার দিঘীর পাড় মোড় এলাকায় পরিচালিত হয়। অভিযানের তথ্য শনিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন কাঁচিহাটা গ্রামের দুই ব্যক্তি—মো. মোস্তফা কামালের ছেলে ফরহাদ ইসলাম ফাহিম (২০) এবং নুর হোসেনের ছেলে তাজুল ইসলাম সুমন (৩৪)। পুলিশের মতে, তারা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রবাজার ও আধিপত্য বিস্তার করতে অবস্থান করছিল। এছাড়া, তারা একটি পলাতক সহযোগীর সঙ্গে এলাকায় সক্রিয় ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, বেগমগঞ্জ থানার একটি টহলদল রাতে ওয়ারেন্ট তামিল এবং অস্ত্র-মাদক উদ্ধারের দায়িত্ব পালন করছিল। কাঁচিহাটা সর্দার দিঘীরপাড় মোড় এলাকায় তাদের নজরে আসে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি। পুলিশের উপস্থিতি দেখে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করা হয়, এক ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারদের তল্লাশি করার সময় ফাহিমের কোমরের সামনে গুঁজে রাখা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, তার কাছ থেকে পিস্তলের দুটি তাজা কার্তুজও জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা স্থানীয়দের মধ্যে ভয় সৃষ্টি ও অবৈধ কার্যক্রম চালানোর উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় অবস্থান করছিল।
এই ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে এবং পলাতক সহযোগীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পলাতক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নোয়াখালীর পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা রোধে তারা পর্যাপ্ত টহল ও অভিযান অব্যাহত রাখবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত চেকপোস্ট এবং নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযান পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনমতকে সমর্থন দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশ্বস্ত করেছে, যারা সমাজে ভয় সৃষ্টি করতে বা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি তৎপরতা অপরিহার্য। গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ফলে এই অভিযান এলাকার মানুষদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে যাতে বেগমগঞ্জ ও নোয়াখালী অঞ্চলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি, অবৈধ অস্ত্র ও কার্তুজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা অন্যদেরকে সতর্ক করবে এবং আইন অমান্যকারীদের জন্য প্রতিরোধমূলক হিসেবে কাজ করবে।