
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী অধ্যাপক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশে তেলের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি জানান, ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, “দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেউ অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের জন্য হঠাৎ করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করবেন না। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে দেশে তেলের মজুদ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার ভবিষ্যতে কোনো সংকট এড়াতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রস্তুতিও রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করবে।
মন্ত্রী বলেন, “জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবসময় সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারি করছে। প্যানিক বা গুজব থেকে কেউ যাতে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করেন, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
অতিদ্রুত জনভোগান্তি কমানোর জন্য মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে তেল ক্রয়ের নিয়ম মেনে চলা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া প্রতিরোধ করা হবে।
জ্বালানিমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, যে কোনো ধরণের গুজব ও আতঙ্ক দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অযাচিত তেলের সঞ্চয়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের তেল মজুদ পর্যাপ্ত এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে। দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না সংগ্রহ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ সুষ্ঠুভাবে চলবে এবং নাগরিকরা স্বাভাবিকভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন চালাতে পারবেন।