
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার সকালে প্রণালিতে চলাচলরত একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর ৭ মার্চ এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে। হামলার শিকার হওয়া তেলবাহী জাহাজটির নাম ‘প্রিমা অয়েল ট্যাংকার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারটি সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালি দিয়ে চলাচল করছিল। এ কারণে জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ট্যাংকারটিকে থামানোর জন্য আগে থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা না মানায় শেষ পর্যন্ত ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর ট্যাংকারটির কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে বা এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে টানা অষ্টম দিনের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইআরজিসি নৌবাহিনী এই অঞ্চলে টহল জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। ফলে এ অঞ্চলে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা সামরিক তৎপরতা দেখা দিলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব জাহাজ তাদের নির্দেশনা বা সতর্কতা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারের মালিকপক্ষ বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর সবসময়ই তীক্ষ্ণ থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও নৌচলাচল ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।