
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নেজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। তারা হলেন—থেলকুড় গ্রামের তুহিন, ফারুক, জাহাঙ্গীর, মমিন, রিংকু, বিপ্লব হোসেন, রফিকুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, রিমন হোসেন এবং আমজাদ হোসেন। তাদের শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার থেলকুড় গ্রামে সিয়াম আলী (১৭) নামের এক যুবক সরিষা ভাঙানো একটি গাড়িসহ দুর্ঘটনায় পড়ে নিহত হন। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গোপন রেখে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
পরে পুলিশ ঘটনাটির খবর পেয়ে নিহত যুবকের বাড়িতে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করতে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় কিছু লোকজন এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাটিতে সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নেজাম উদ্দিন, কালীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিপ্লব কুমার রায় এবং কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম আহত হন। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়।
সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাতেও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্তও চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের মরদেহ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ভুল বোঝাবুঝি থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে।