
পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর পশুরহাটে গরু-ছাগল কেনাবেচার সময় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় হাটের ইজারাদার সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু নাঈম নাছিরসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার আওতাধীন শরৎনগর বাজারের এই পশুরহাট প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে নাটোর জেলার ফজলে আজিম নামের এক ব্যবসায়ী হাটটি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাটে বড় গরুর জন্য ৬৫০ টাকা, ছোট গরুর জন্য ৪৪০ টাকা এবং বড় ছাগলের জন্য ৩০০ টাকা ও ছোট ছাগলের জন্য ২০০ টাকা টোল নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে হাটে আসা ক্রেতাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। শুধু ক্রেতার কাছ থেকেই নয়, অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টোল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত দুইটি সাপ্তাহিক শনিবারের হাটে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হাটে উপস্থিত হয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের বাগবিতণ্ডাও হয়।
পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু নাঈম নাছির বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই হাটে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। আমরা কয়েকটি হাটে উপস্থিত হয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে হাটের ইজারাদার ফজলে আজিম বলেন, টোল সংগ্রহকারীদের সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে টোল আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা নেয়, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর ইজারাদারের প্রতিনিধিকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে আবার এমন অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে সাধারণ কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে পশু নিয়ে এসে হাটে বিক্রি করতে গিয়ে বাড়তি খরচের সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে হাটে পশু কেনাবেচার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে।
তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সরকার নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হয় এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বচ্ছ ও ন্যায্য পরিবেশে পশু কেনাবেচা করতে পারেন।