
সড়ক পরিবহন খাতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালক ও তাদের সহকারীদের জন্য দেশব্যাপী চোখের চিকিৎসা ও চশমা প্রদান কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবকে অবহিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে ভিশন স্প্রিং বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা জানান, সড়ক পরিবহন খাতে কর্মরত চালক ও চালকের সহকারীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার পাশাপাশি যাদের প্রয়োজন তাদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চশমা সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধিরা বলেন, অনেক চালক দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসা বা চোখ পরীক্ষা না করায় সমস্যা ধীরে ধীরে গুরুতর হয়ে ওঠে। এর ফলে তাদের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভিশন স্প্রিং বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি যৌথভাবে দেশব্যাপী একটি কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পরিবহন টার্মিনাল ও পরিবহন কেন্দ্রে অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে চালক ও সহকারীদের চোখ পরীক্ষা করা হবে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চালকদের দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকা অত্যাবশ্যক, কারণ সড়কে গাড়ি চালানোর সময় সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চালকদের স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। সরকার সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। চালকদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎ শেষে ভিশন স্প্রিং বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা সড়ক প্রতিমন্ত্রীকে ফুল ও অভিনন্দনপত্র দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে এই কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রতিনিধিরা আরও বলেন, এই উদ্যোগ শুধু চালক ও সহকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে সড়ক পরিবহন খাতের নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক দেশে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে চালক ও চালকের সহকারীদের জন্য দেশব্যাপী চোখের চিকিৎসা ও চশমা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এটি সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।