
খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ভবনগুলো প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এবং দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবস্থার অবনতি ঘটেছে। দেয়াল ও ছাদে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে, পলেস্তরা খসে পড়ছে, মেঝে ও সিঁড়িতে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি ঢুকে ধীরেই ক্ষতি করছে।
উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ১৯৮৪ সালে ছয়টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া চেয়ারম্যান ও ইউএনওর জন্য পৃথক দুটি বাংলোও ছিল। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় ভবনগুলোকে সুন্দরী, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, ধুন্দল ইত্যাদি নাম দেওয়া হয়। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে এই সব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, আবাসনের অভাবে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই পুরনো ভবনে বসবাস করছেন। কেউ পরিবারসহ থাকছেন, কেউবা অফিস থেকে দূরে ভাড়া করা বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন যোগদানকারীরা ঝুঁকির কারণে কোয়ার্টারে বসবাসের আগে ভাড়া বাসা খুঁজতে ব্যস্ত।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ভবনগুলোতে থাকার সময় ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে এবং শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে পলিথিন দিয়ে আংশিক সুরক্ষা করা হয়েছে। ভবনগুলোর নিরাপত্তা ও আবাসনের অভাবজনিত কারণে সরকারি দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নেই।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর এবং গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৫০ বছর আগের প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনগুলোর সংস্কার করা কঠিন। তবে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জাবের জানান, সরকারি কোয়ার্টারে থাকা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে কয়েকদিন হোটেলে থাকতে হয়েছে, পরে দূরবর্তী ভাড়া বাসায় অবস্থান করতে হচ্ছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার মণ্ডলও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, বাইরে ভাড়া বাসা নেওয়ায় অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল ফজেল জানিয়েছেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও কর্মকর্তারা নিরূপায় হয়ে সেখানে বসবাস করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ভবনগুলোতে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। পরিত্যক্ত ঘোষণা সত্ত্বেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রেজুলেশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন সরকারি আবাসন নির্মাণ এবং পরিত্যক্ত ভবনের সংস্কার প্রয়োজন। এটি না হলে কর্মকর্তাদের নিরাপদ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হবে। বর্তমান আবাসন সংকট সমাধান করা গেলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঝুঁকি ছাড়াই সরকারি কোয়ার্টারে থাকতে পারবেন এবং অফিস কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে।