
খুলনা মহানগরীর লবণচড়া থানাধীন নিজখামার এলাকায় শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যরাতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের সময় ৩৭ বছর বয়সী সুরাইয়া পারভীন সুমী নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার (৭ মার্চ) সকালে নিজখামার এলাকায় বসানো চেকপোস্টে সন্দেহজনকভাবে একটি গাড়ি থামানো হয়। গাড়ির তল্লাশির সময় সুরাইয়া পারভীন সুমীর কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জাপানি ও ব্রিটিশ তৈরি পাঁচটি পিস্তল পাওয়া যায়। এছাড়া তার কাছে থাকা ৯৬ রাউন্ড গুলির প্রাথমিক মূল্যায়ন পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
লবণচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান জানিয়েছেন, “চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় সন্দেহজনক নারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি বড় অস্ত্র চালানের প্রাথমিক চিহ্ন হতে পারে।”
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদারকি করেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি বড় ধরনের অবৈধ অস্ত্রের চালান। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে, আটক ওই নারী কার কাছ থেকে অস্ত্রগুলো পেয়েছেন এবং কোথায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।”
পুলিশ জানিয়েছে, আটক নারী সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন বাটকেখালী এলাকার মৃত আশারাফ উদীনের কন্যা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা থেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদেশি তৈরি পিস্তল এবং বড় পরিমাণ গুলির অবৈধ সরবরাহ এলাকায় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে, যাতে শহরের নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। পুলিশ বলছে, এই ধরনের তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম মূলত অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা প্রতিরোধ, সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হচ্ছে।
খুলনা পুলিশের এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা বৃদ্ধি করেছে। তারা আশা করছেন, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপে শহরে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ সীমিত হবে। এছাড়া, আটক নারীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের অস্ত্র ও গুলি সাধারণ নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, এটি সম্ভবত একটি বৃহৎ অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের অংশ।
নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশের সহায়তায় ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ আশা করছে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করবে।