
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয় আগুনে পুড়ে গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুনে অফিসের সমস্ত আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিলসহ দলীয় প্রধানের ছবি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অফিসের সব আসবাবপত্র পুড়ে যায়। একই সময়ে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। তবে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়।
মহেশপুর থানা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত বুধবার ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ার কারণে স্থানীয় যুবক মহিরুদ্দিন ও বিএনপি সদস্য হামিদুল ইসলামের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা পরবর্তীতে সমাধান করেছিল। এই ঘটনার প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম হতে পারে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের পেছনের কারণ।”
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত শুরু করেছি।”
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করছেন, রাজনৈতিক বিরোধ বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এই ধরনের হামলা সমাজে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর হামলা রোধ করা যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিসংযোগের সময় অফিসে কেউ উপস্থিত ছিল না। তাই কোনো মানুষের শারীরিক আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয়ের সম্পদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা আশ্বাস দিয়েছেন, তারা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করে পুনরায় অফিস কার্যক্রম চালু করবেন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
মহেশপুরের এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে এবং পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।
সংক্ষেপে, মহেশপুরে বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং দায়ীদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের হামলা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা স্থানীয় শান্তি বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা প্রতিরোধে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।