
পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমন বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। শুক্রবার চট্টগ্রামে ‘পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা যে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর জন্য কোনো দলীয় পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা করা হবে না। এমনকি দলীয় নেতা-কর্মীরাও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে ছাড় পাবেন না।
মীর হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিপুল জনসংখ্যার জন্য একটি সমৃদ্ধ, শান্তিময় ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি হাটহাজারীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপরও আলোকপাত করেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনের রাস্তাঘাট মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘লাইভ আপডেট’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে এবং জনগণের অভিযোগ বা অনুযোগ সরাসরি জানানো সম্ভব।
ইফতার মাহফিলে ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বেও প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং প্রত্যেকে নিজের ধর্ম পালন করবে। অন্যের ধর্মের ওপর কোনো আঘাত করা হবে না। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে আমরা দেশের শান্তি নিশ্চিত করতে চাই।
এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। একই দিনে হাটহাজারীতে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উপজেলা হেফাজতের সভাপতি আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে হেফাজতের নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মহান মাসে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সংক্ষেপে, মীর হেলাল উদ্দিনের ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে সরকার ন্যায্য ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে প্রাধান্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।